বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

প্রিয় পাঠক, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা পাওয়ার জন্য আগ্রহী, কোথায় থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করবেন এই নিয়ে চিন্তিত? তাহলে এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন, আপনার জন্য এ প্রতিবেদনটি অত্যন্ত প্রয়োজন।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

আজকের এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনের শেষ পর্যন্ত মনোযোগের সহিত পড়তে থাকুন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবেন ইনশাল্লাহ।

ভূমিকা

প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জ্বালানি সম্পদ। দেশের মোট বাণিজ্যিক জ্বালানির চাহিদার প্রায় ৭৫% প্রাকৃতিক গ্যাস পূরণ করে। অন্যান্য উৎসের মধ্যে রয়েছে খনিজ তেল ও কয়লা। বাংলাদেশ সরকার প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য বিদেশী বিনিয়োগকে উৎসাহিত করেছে। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা সম্প্রসারিত হওয়ায় সেখানে তেল ও গ্যাসসহ বিভিন্ন খনিজ সম্পদ পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেছে। সে কারণে বিদেশি বিভিন্ন তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কারী কোম্পানির সাথে আলোচনা করছে।

প্রাকৃতিক গ্যাস

বাংলাদেশের গ্যাস খুবই উন্নত মানের। উত্তোলিত গ্যাসের মধ্যে প্রায় ৯৫% থেকে ৯৯% মিথেন পাওয়া যায়। এর মধ্যে সালফার নেই বললেই চলে। সুতরাং প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল উপাদান হলো মিথেন গ্যাস। দেশের প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাস ৯৭.৩৩% মিথেন, ১.৭২% ইথেন, ০.৩৫% প্রোপেন, এবং ০.১৯ % উচ্চ হাইড্রোকার্বন দ্বারা গঠিত। দেশের অধিকাংশ গ্যাস ক্ষেত্র সমূহ শুষ্ক আর কিছু আর্দ্র। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, দেশে আবিষ্কৃত গ্যাস উত্তোলন প্রায় শেষের দিকে বিধায় আরো নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করতে হবে। কারণ দেশের উন্নয়নে প্রাকৃতিক গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র সমূহের বিবরণ

বাংলাদেশের বিভিন্ন আকৃতির প্রায় ২৫টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এই ২৫টি গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ২১.০৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত আছে। দেশের মোট উত্তোলিত গ্যাসের ৫২% বিদ্যুৎ উৎপাদনে, .২৮ % সারকারখানায় এবং ২০ % শিল্প বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠা্‌ প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়ি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বর্তমানে ১৭ টি গ্যাসক্ষেত্র বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বে একটি গ্যাস প্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

দেশের ২৫ টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে দুইটি গ্যাসক্ষেত্র সমুদ্র তীরে এবং অবশিষ্ট গুলো পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। পাহাড়ি এলাকার ভূগর্ভস্থ শিলার উর্ধ্বভাঁজ ও নিম্নভাজের মধ্যে যে ফাটলের সৃষ্টি হয় সেখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের সৃষ্টি হয়। সে কারণে পাহাড়ি এলাকায় গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। নিম্নে বাংলাদেশের গ্যাস ক্ষেত্রসমূহের বিবরণ উল্লেখ করা হলো-

১। সিলেট গ্যাসক্ষেত্র

১৯৫৫ সালে এই গ্যাসক্ষেত্র টি আবিষ্কৃত হয়। এটি সিলেট শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। এখানে সাতটি কুপ রয়েছে যার মধ্যে ১ নম্বর কূপের গ্যাস উত্তোলন শেষ এবং৩ ও ৬ নম্বর কুপে গ্যাস উত্তোলন চলছে। ৭ নম্বর কুপে খনিজ তেল পাওয়া গেছে। এখানকার গ্যাসক্ষেত্রে ৩৭০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত আছে। আর প্রাথমিক উত্তোলনযোগ্য মজুদের পরিমাণ ৩১৮ বিলিয়ন ঘনফুট। পাইপ লাইনের মাধ্যমে এখানকার গ্যাস ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানায় ব্যবহার করা হয় হয়।

সিলেট গ্যাসক্ষেত্র

২। ছাতক গ্যাসক্ষেত্র

সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক নামক স্থানে এই গ্যাসক্ষেত্রটি অবস্থিত। এটি ১৯৫৯ সালে আবিষ্কার করা হয়। ছাতক সিমেন্ট কারখানায় এখানকার গ্যাস সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এখানে প্রাথমিক মোট মজুদ গ্যাসের পরিমাণ ১০৩৯ বিলিয়ন ঘনফুট এবং প্রাথমিক উত্তোলনযোগ্য গ্যাস মজুদের পরিমাণ প্রায় ৪৭৩ বিলিয়ন ঘনফুট। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে গ্যাস আধারের গভীরতা প্রায় ৫৬৪ থেকে ১৬৫৭মিটার।

ছাতক গ্যাসক্ষেত্র

৩। তিতাস গ্যাসক্ষেত্র

এই গ্যাসক্ষেত্রটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত। ১৯৬২ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের তেল-গ্যাস কোম্পানি এই গ্যাস ক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। এটি বাংলাদেশের সবচাইতে বড় গ্যাসক্ষেত্র। এখানে প্রায় ১.১৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রাথমিকভাবে মজুদ আছে। যার উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ হলো ২.১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে গ্যাস আধারের গভীরতা প্রায় ২৬১৬ থেকে ৩১২৪ মিটার। এখানকার গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৭.৭৮ %। ঘোড়াশাল ও আশুগঞ্জের সার কারখানায় এই গ্যাস সরবরাহ করা হয়।

তিতাস গ্যাসক্ষেত্র

৪। রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র

১৯৬০ সালে মৌলভীবাজার জেলার রশিদপুর নামক স্থানে এই গ্যাস ক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয়। এখানে প্রাথমিক মোট গ্যাস মজুদের পরিমাণ প্রায় ২.২৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। যার মধ্যে ১.৩০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলনযোগ্য। ১৯৮৩ সাল থেকে উক্ত গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ প্রায় ৯৮.৩০ %।

৫। কৈলাসটিলা গ্যাসক্ষেত্র 

১৯৬২ সালের সিলেট জেলায় এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয়। এটি বাংলাদেশের বৃহৎ একটি গ্যাস ক্ষেত্র। এখানে প্রাথমিক মোট মজুদের পরিমাণ ৩.৬৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট এবং উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ২.৫২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এখান থেকে ১৯৮২ সাল হতে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। গ্যাস আধারের নিচে খনিজ তেল আবিষ্কৃত হয়েছে, তবে উত্তোলনযোগ্য নয়। এখানকার গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ প্রায় ৯৫.৭৫ %। ভূপৃষ্ঠ থেকে গ্যাস আধারের গভীরতা প্রায় ২২৮১ থেকে ২৯৯০মিটার।

৬। হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র

১৯৬৩ সালে গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয়। এই গ্যাসক্ষেত্রটি ১১ কিলোমিটার লম্বা এবং ৪.৫ কিলোমিটার প্রশস্ত। উক্ত গ্যাসক্ষেত্রে ১০টি গ্যাস উত্তোলনের কূপ আছে। এখানে প্রায় ৩৬৮৪ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত আছে এবং উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ২৬৩৩ বিলিয়ন ঘনফুট। এখানকার গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ প্রায় ৯৬.২৮ %। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে গ্যাস আধারের গভীরতা প্রায় ১৩৯৭ থেকে ৩০১৪ মিটার।

৭। বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্র

এই গ্যাস ক্ষেত্রটি কুমিল্লা জেলার বাখরাবাদ এলাকায় অবস্থিত। এটি ১৯৬৯ সালে আবিষ্কৃত হয়। ১৯৮৪ সাল থেকে এখানে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। উক্ত গ্যাসক্ষেত্রে মোট মজুদের পরিমাণ প্রায় ১৭০১ বিলিয়ন ঘনফুট এবং উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ ১২৩১ বিলিয়ন ঘনফুট। এখানকার গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৩.৯৮ %। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে গ্যাস আধারের গভীরতা প্রায় ১৮২৬ থেকে ২১৪৪ মিটার।

৮। সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্র

সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্রটি খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত। এটি .১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের জাতীয় তেল-গ্যাস কোম্পানি আবিষ্কার করে। উক্ত গ্যাসক্ষেত্রটির চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় একমাত্র গ্যাস ক্ষেত্র। এখানে প্রাথমিক মোট মজুদের পরিমাণ প্রায় ৬৫৩ বিলিয়ন ঘনফুট এবং প্রাথমিক উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৩৭০ বিলিয়ন ঘনফুট। এখানকার গ্যাসের মিথেনের পরিমাণ প্রায় ৯৬.৯৫%। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে গ্যাস আধারের গভীরতা প্রায় ৯৮০ থেকে ১২৭৯ মিটার।

৯। কুতুবদিয়া গ্যাসক্ষেত্র

এই গ্যাসক্ষেত্রটি .১৯৭৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানি আবিষ্কার করে। এটি কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া নামক স্থানে অবস্থিত। চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে এই গ্যাসক্ষেত্রটির দূরত্ব প্রায় ৯২ কিলোমিটার। এ গ্যাসক্ষেত্রের আকার খুব বড় নয়। এখানে প্রাথমিক মোট গ্যাস মজুদের পরিমাণ প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ঘনফুট এবং প্রাথমিক উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ঘনফুট। গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ প্রায় ৯২.৪২ %। ভূপৃষ্ঠ থেকে গ্যাস আধারের গভীরতা প্রায় ২৬৫০ মিটার।

১০। বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র

বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রটি নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত। এটি পেট্রোল বাংলা ১৯৭৭ সালে আবিষ্কার করে। এখানে প্রাথমিক মোট গ্যাস মজুদের পরিমাণ প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ঘনফুট এবং উত্তোলনযোগ্য মোট গ্যাসের পরিমাণ ২১ বিলিয়ন ঘনফুট। এখানে উত্তলিত গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ প্রায় ৯৫.৩২ %। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে গ্যাস আধারের গভীরতা প্রায় ২৯৯৬ মিটার।

১১। কামাতা গ্যাসক্ষেত্র

এই গ্যাসক্ষেত্রটি গাজীপুর জেলার টঙ্গীতে অবস্থিত। ১৯৮১ সালে পেট্রোবাংলা এই গ্যাস ক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। এখানে মোট গ্যাস মজুদের পরিমাণ প্রায় ৭১ বিলিয়ন ঘনফুট এবং মোট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৫০ বিলিয়ন ঘনফুট। ভূপৃষ্ঠ থেকে গ্যাস আধারের গভীরতা প্রায় ২৯৯৪ মিটার।

১২। ফেনী গ্যাসক্ষেত্র

এই গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৮১ সালে পেট্রোল বাংলা কর্তৃক আবিষ্কার করে। ৫ বছর গ্যাস উত্তোলনের পর ১৯৯৮ সালে এটি পরিত্যক্ত হয়। এখানে মোট গ্যাসের মজুদ হলো ১৮৫ বিলিয়ন ঘুট ঘনফ... ঘনফোট ফুট ফুট। এবং উত্তরাধযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ হলো ১২৫ বিলিয়ন ঘনফুট। এখানে প্রাপ্ত গ্যাসের মিথেনের পরিমাণ প্রায় ৯২.২৩ %। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে গ্যাস আধারের গভীরতা প্রায় ১৭৫৬ থেকে ২৭৬০ মিটার।

১৩। বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্র

সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার নামক স্থানে এই গ্যাসক্ষেত্রটি অবস্থিত। ১৯৮১ সালে পেট্রোবাংলা এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। এখানে প্রাথমিক মোট গ্যাস মজুদের পরিমাণ প্রায় ২৩০ বিলিয়ন ঘনফুট এবং উত্তোরনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ হলো প্রায় ২০৩ বিলিয়ন ঘনফুট। এখানে প্রাপ্ত গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ হলো ৯৩.৬৯ %। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে গ্যাস আধারের গভীরতা প্রায় ৩২৩০ থেকে ৩৪৫১ মিটার।

১৪। ফেঞ্চুগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র

এই গ্যাস ক্ষেত্রটি ১৯৮৮ সালে পেট্রোবাংলা কর্তৃক আবিষ্কার করে। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে গভীরতম গ্যাসকুপ। এখানে মোট গ্যাসের মজুদ হলো ৫৫৩ বিলিয়ন ঘনফুট এবং উত্তোরনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ হলো ৩৮১ বিলিয়ন ঘনফুট। এখানে গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ প্রায় ৯৬.৬৮ %। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে গ্যাস আধারের গভীরতা প্রায় ৪৯৭৭ মিটার।

১৫। জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্র

জালালাবাদ গ্যাস ক্ষেত্রটির সিলেট জেলায় অবস্থিত। এটি সিলেটের তেল কোম্পানি ১৯৮৯ সালে আবিষ্কার করে। এখানে প্রাথমিক মোট গ্যাস মজুদের পরিমাণ হলো ১৪৯১ বিলিয়ন ঘনফুট এবং উত্তোলনযোগ্য মোট গ্যাসের পরিমাণ .১১৮৪ বিলিয়ন ঘনফুট। এখানে প্রাপ্ত গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ প্রায় ৯০.৪৮ %। ভূপৃষ্ঠ থেকে গ্যাস আধারের গভীরতা প্রায় ২৫০৩ থেকে ২৭০৮ মিটার।

১৬। নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্র

নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্রটি নরসিংদী জেলায় অবস্থিত। এটি পেট্রোবাংলা ১৯৯০ সালে আবিষ্কার করে। এখানে প্রাথমিক মোট গ্যাস মজুদের পরিমাণ হল ৩৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট এবং উত্তোলনযোগ্য মোট গ্যাসের পরিমাণ ২৭৬ বিলিয়ন ঘনফুট। এখানে প্রাপ্ত গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ প্রায় ৯৫.২১ %। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে গ্যাস আধারের গভীরতা প্রায় ২৯০৭ থেকে ৩১৫৭ মিটার।

১৭। মেঘনা গ্যাসক্ষেত্র

১৯৯০ সালে কুমিল্লা জেলায় মরিচকান্দি নামক স্থানে পেট্রোবাংলা গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। এখানে প্রাথমিক মোট গ্যাস মসজিদের পরিমাণ প্রায় ১২২ বিলিয়ন ঘনফুট এবং উত্তোলনযোগ্য মোট গ্যাসের পরিমাণ ৬৯ বিলিয়ন ফুট। এখানে প্রাপ্ত গ্যাসের মিথেনের পরিমাণ প্রায় ৯৪.৭৫ %। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে গ্যাস আধারের গভীরতা প্রায় ২২৯৩ থেকে ৩০১৭ মিটার।

১৮। সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র

সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রটি চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত। এটি ১৯৯৬ সালে আবিষ্কৃত হয়। এখানে প্রাথমিক মোট গ্যাস মজুদের পরিমাণ প্রায় ৮৯৯ বিলিয়ন ঘনফুট এবং উত্তোলনযোগ্য মোট গ্যাসের পরিমাণ ৫৭৭ বিলিয়ন ঘনফুট। এখানে প্রাপ্ত গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৫.২২ %।

১৯। বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র

বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রটি হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। এই গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৯৮ সালে ইউনোকল (Unocel) কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়। এখানে মোট গ্যাস মজুদের পরিমাণ হলো ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট এবং উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ হলো ২.৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।

২০। মৌলভীবাজার গ্যাসক্ষেত্র

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের কাছে এই গ্যাসক্ষেত্রটি অবস্থিত। ১৯৯৭ সালে ইউনোকল এই গ্যাস ক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। এখানে প্রাথমিক মোট গ্যাস মজুদের পরিমাণ প্রায় ১০৫৩ বিলিয়ন ঘনফুট এবং উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ হলো প্রায় ৪১৮ বিলিয়ন ঘনফুট। ১৯৯৮ সালে ইউনোকল কোম্পানি কুপ খননের সময় দুর্ঘটনার ফলে প্রচুর পরিমাণ গ্যাস বায়ুমন্ডলে চলে যায়, যা মাগুরছড়া গ্যাসক্ষেত্র দুর্ঘটনা নামে পরিচিত।

২১। শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র

এই গ্যাসক্ষেত্রটি ভোলা জেলায় শাহবাজপুরে অবস্থিত। ১৯৯৫ সালে এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয়। এখানে মোট গ্যাস মজুদের পরিমাণ হলো ৬৭৭ বিলিয়ন ঘনফুট এবং মোট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ হলো ৩৯০ বিলিয়ন ঘনফুট।

২২। সালদা নদী গ্যাসক্ষেত্র

এই গ্যাসক্ষেত্রটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত। এখানে মোট গ্যাস মজুদের পরিমাণ প্রায় ৩৮০ বিলিয়ন ঘনফুট এবং মোট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ২৭৮ বিলিয়ন ঘনফুট।

উপসংহার

আজকের এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আমি আশা করছি এই বিষয়ে পরিপূর্ণ ধারণা দিতে সক্ষম হয়েছি। এই প্রতিবেদনটি তৈরি করতে বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং বিভিন্ন লেখকের বই পুস্তক অধ্যায় করে জ্ঞান আহরণের মাধ্যমে নতুনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা পরিপূর্ণভাবে বুঝতে পেরেছেন। এতক্ষণ ধরে এই প্রতিবেদনটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

Hasi Online IT নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url