ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের/২৩ সাজেশান এবং উত্তর
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ এর অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আজকের এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনের মধ্যে রয়েছে কিছু এক কথায় প্রশ্ন এবং তার উত্তর। কিছু ছোট প্রশ্ন এবং তার উত্তর। এছাড়াও রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বড় প্রশ্নের নমুনা। তাহলে এবার বিস্তারিত দেখে নেওয়া যাক-
ক বিভাগ
যেকোনো ১০ টি প্রশ্নের উত্তর দাও ১X১০=১০
১। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমার দৈর্ঘ্য কত?
উত্তরঃ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমার দৈর্ঘ্য "২০০ নটিক্যাল মাইল"।
২। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তর্জাতিক নদী কয়টি?
উত্তরঃ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তর্জাতিক নদী "৫৪" টি।
৩। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কি?
উত্তরঃ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম "তাজিনডং"।
৪। বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপের নাম কি?
উত্তরঃ "ভোলা" বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপের নাম।
৫। সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ কোনটি?
উত্তরঃ সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হল "সুন্দরী"।
৬। 'চা' চাষ কোন ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড?
উত্তরঃ চা চাষ "দ্বিতীয় পর্যায়ের" অর্থনৈতিক কর্মকান্ড।
৭। বাংলাদেশের সবচেয়ে কম জনসংখ্যা অধ্যুষিত জেলা কোনটি?
উত্তরঃ বাংলাদেশের সবচেয়ে কম জনসংখ্যা উদ্দেশ্য জেলা হলো "বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি"।
৮। বাংলাদেশের দুইটি মেগাসিটির নাম লিখ।
উত্তরঃ বাংলাদেশের দুইটি মেগাসিটি হলো "ঢাকা ও চট্টগ্রাম"।
৯। বাংলাদেশের প্রধান দুইটি অর্থকারী ফসলের নাম লিখ।
উত্তরঃ বাংলাদেশের প্রধান দুইটি অর্থকরী ফসল হলো "পাট ও চা"।
১০। বস্ত্র শিল্পের প্রধান কাঁচামাল কি?
উত্তরঃ বস্ত্র শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হল "তুলা"।
১১। বাংলাদেশের বৃহত্তম হাওড় কোনটি?
উত্তরঃ বাংলাদেশের বৃহত্তম হাওড় হল "টাঙ্গুয়া"।
১২। দুইটি মানব সৃষ্ট দুর্যোগের নাম লিখ।
উত্তরঃ মানবসৃষ্ট দুইটি দুর্যোগের নাম হল- "একটি বন নিধন এবং অপরটি অগ্নিকাণ্ড"।
খ বিভাগ
যেকোনো ৫ টি প্রশ্নের উত্তর দাও ৪X৫=২০
২। বাংলাদেশের অবস্থান ও সীমানা উল্লেখ কর।
৩। বরেন্দ্রভূমি অঞ্চলের বর্ণনা দাও।
৪। বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের শ্রেণীবিভাগ কর।
৫। বাংলাদেশ দ্রুত নগরায়নের কারণ উল্লেখ কর।
৬। বাংলাদেশের কৃষির বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।
৭। বাংলাদেশের রেল পরিবহনের গুরুত্ব লিখ।
৮। বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের ভূমিধসের কারণ সমূহ উল্লেখ কর।
৯। টেকসই উন্নয়ন ধারণা ব্যাখ্যা কর।
নিম্নে এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর গুলো দেওয়া হল-
২। বাংলাদেশের অবস্থান ও সীমানা উল্লেখ কর।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান
বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের অন্তর্গত একটি উন্নয়নশীল দেশ, যা ভারতের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। পৃথিবীর গোলার্ধের ভিত্তিতে দেশটি উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। মহাসাগরের ভিত্তিতে দেশটি ভারত মহাসাগরের উত্তরে তথা বঙ্গোপসাগরের উত্তরে অবস্থিত। ২৩.৫° কর্কটক্রান্তি রেখাটি প্রায় দেশটির মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে, বিধায় কর্কটক্রান্তি রেখার ভিত্তিতে ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত এই কথা বলা যায়।
ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বাংশে অবস্থিত বাংলাদেশের সীমানা বেশিরভাগ অংশই ভারতের সীমানার সাথে সংলগ্ন। দেশটির উত্তর দিকে ভারতের কুচবিহার, জলপাইগুড়ি, আসাম, মেঘালয় এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মায়ানমার অবস্থিত। দেশটি মূলত তিন দিক থেকে ভারত ও মায়ানমার দ্বারা আবদ্ধ। একমাত্র দক্ষিণ ভাগ উন্মুক্ত অর্থাৎ দক্ষিণে এবং বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।
বাংলাদেশের প্রকৃত বা পরম অবস্থান
বাংলাদেশ ২০ ডিগ্রি ৩৪ মিনিট উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৬ ডিগ্রি ৩৮ মিনিট উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ ডিগ্রি এক মিনিট পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২ ডিগ্রি ৪১ মিনিট পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত।
বাংলাদেশের সীমানা
বাংলাদেশের মোট আয়তন ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। এর মধ্যে স্থলভাগ ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৯১০ বর্গ কিলোমিটার এবং জলভাগ ১০ হাজার ৯০ বর্গ কিলোমিটার। মোট স্থলসীমানা মোট প্রায় ৪২৪৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভারতের সাথে সীমানা হলো ৪ হাজার ৫৩ কিলোমিটার এবং মায়ানমারের সাথে ১৫৩ কিলোমিটার। সমুদ্র উপকূলীয় রেখা ৫৮০ কিলোমিটার। বাংলাদেশের সর্ব উত্তরে অবস্থিত স্থানের নাম বাংলাবান্ধা ও সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত স্থানের নাম ছেড়াদ্বীপ।
৩। বরেন্দ্রভূমি অঞ্চলের বর্ণনা দাও।
বরেন্দ্রভূমি অঞ্চলের বর্ণনা
উত্তরঃ এই প্রশ্নটির উত্তর বিস্তারিত জানতে করুন অথবা ক্লিক করুন- "হাসি অনলাইন আইটি"
অথবা গুগলে সার্চ দিন- https://www.hasionlineit.com/2024/05/blog-post_20.html
৫। বাংলাদেশ দ্রুত নগরায়নের কারণ উল্লেখ কর।
বাংলাদেশের দ্রুত নগরায়নের কারণ
বাংলাদেশ একটি অতিরিক্ত জনসংখ্যার দেশ। এখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ১০৫০ জন লোক বসবাস করে। দেশের সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যা বেশি। দেশের সম্পদ ও জনসংখ্যার মধ্যে ভারসাম্য নেই। দেশের প্রায় ৮০% লোক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষি কাজের সাথে জড়িত। তবে মাথাপিছু জমির পরিমাণ খুবই কম। দেশের গ্রামাঞ্চলে অনেক লোক দারিদ্র বা চরম দরিদ্র ভাবে জীবন যাপন করে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়ে যায়। আবার জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে অনেক কৃষি শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। সুতরাং মানুষ উন্নত জীবন যাপনের আশায় শহর বা নগরে কাজের সন্ধানে চলে আসে। দেশে জনসংখ্যা যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, শহর বা নগরের দিকে মানুষের অভিপ্রায়ন ও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নে বাংলাদেশের দ্রুত নগরায়নের কারণ কিছু উল্লেখ করা হলো-
- গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থানের অভাব বা শিক্ষিত বেকার সমস্যা বৃদ্ধি ;
- দেশে অসম উন্নয়ন ;
- বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন-বন্যা, খরা, জলবদ্ধতা, নদী ভাঙ্গন প্রভৃতি ;
- উন্নত জীবন যাপনের আকাঙ্ক্ষা ;
- শিল্পের বিকাশ ;
- পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ;
- ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ;
- দেশী ও বিদেশী শিল্পের বিভিন্ন এনজিও কার্য পরিচালনা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ ; এবং
- শহরে উচ্চ শিক্ষা বা প্রযুক্তি জ্ঞান আহরণের সুযোগ ; প্রভৃতি।
৬। বাংলাদেশের কৃষির বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।
বাংলাদেশের কৃষির বৈশিষ্ট্য
উত্তরঃ এই প্রশ্নটির উত্তর বিস্তারিত জানতে ভিজিট অথবা ক্লিক করুন- "হাসি অনলাইন আইটি"
অথবা গুগলে সার্চ দিন- https://www.hasionlineit.com/2025/01/blog-post_18.html
৭। বাংলাদেশের রেল পরিবহনের গুরুত্ব লিখ।
বাংলাদেশের রেলওয়ে পরিবহন
বাংলাদেশে রেলওয়ে পরিবহন ব্যবস্থা তেমন ভালো নয়। বর্তমানে বিভিন্ন জেলা রেলওয়ে দ্বারা সংযুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সদর দপ্তর রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত। ব্রিটিশ আমলে আসাম-বেঙ্গল রেল পথ নির্মাণ করা হয়। ওই সময় চট্টগ্রাম ছিল শেষ সীমার রেলস্টেশন। বাংলার এই ভূখণ্ডে সর্বপ্রথম রেললাইন স্থাপন করা হয় ১৮৬২ সালে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার জগতি নামক স্থান থেকে। এই রেলপথের দূরত্ব ছিল প্রায় ৫৩.১১ কিলোমিটার। ২০১২ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২৮৭৭ কিলোমিটার।
বাংলাদেশের রেল পরিবহনের গুরুত্ব
একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করা হল-
- বিপুল পরিমাণ যাত্রী রেলপথে যাতায়াত করে। বিভিন্ন প্রকার দ্রব্য সামগ্রী রেলপথের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। বিশেষ করে দূরবর্তী বিভিন্ন স্থানে অল্প সময়ের মধ্যে রেলপথ যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করে থাকে।
- রেলপথ বিভিন্ন স্থানের মধ্যে শ্রমিকের চলাচলের সহায়তা করে। এর ফলে উৎপাদন ক্ষেত্রে শ্রমিকের যোগানো বৃদ্ধি পায় এবং দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে।
- রেল পথের মাধ্যমে অল্প খরচের দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে পণ্য পরিবহন করা যায়। ফলের দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটে এবং পণ্যের ভারসাম্য সৃষ্টি হয়।
- রেলপথের মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের মধ্যে সহজে যোগাযোগ স্থাপিত হয়। গ্রামবাসীরা অল্প সময়ে শহরে এবং শহরবাসীরা অল্প সময়ে গ্রামে আসা-যাওয়া করতে পারে।
- রেলপথে অতি সহজেই পণ্যদ্রব্য দূর দূরান্তে পাঠানো যায়। একটি দেশে রেলপথের পরিমাণ যত বৃদ্ধি পাবে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে জিনিসপত্রের আদান-প্রদান ও তত বেশি হবে।
- কৃষির উন্নয়নে রেলপথের গুরুত্ব অপরিসীম। কৃষি কাজের জন্য ব্যবহৃত সার, কীটনাশক, বীজ, উন্নত মানের যন্ত্রপাতি প্রভৃতি প্রয়োজন। রেল পরিবহনের মাধ্যমে এসব দ্রব্য সামগ্রী সুলভে ও অতি দ্রুত গ্রামের বাজারে প্রেরণ করা সম্ভব। দেশের দরিদ্র কৃষকেরা রেলপথের মাধ্যমে অল্প ভাড়ায় তাদের উৎপাদিত দ্রব্য বাজারজাত ও শিল্প এলাকায় প্রেরণ করতে পারে।
- রেলপথের মাধ্যমে শ্রমিকরা অতি সহজেই এক স্থান হতে অন্য স্থানে যাতায়াত করতে পারে। তারা যেখানে বেশি মজুরি পায়, সেখানে গিয়ে অধিক মজুরিতে কাজ করে।
- রেল পরিবহন ব্যবস্থার অধীনে হাজার হাজার লোক চাকুরী করে তাদের পরিবারবর্গ নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। কাজেই কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে রেলপথ যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।
- শিল্প উন্নয়নের ক্ষেত্রে রেলপথের গুরুত্ব অপরিসীম। রেল পথেই কারখানার কাঁচামাল দূরবর্তী অঞ্চল হতে সংগ্রহ করা সম্ভব। আবার উৎপাদিত শিল্পজাত দ্রব্য স্বল্প খরচে দূরবর্তী বাজারে প্রেরণ করা যায়।
- রেল পরিবহন ব্যবস্থা হতে একটি দেশের সরকারের প্রচুর টাকা আয় হয়। ফলে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি পায়।
- দেশের কোথাও বন্যা, ঝড়, দুর্ভিক্ষ, মহামারী প্রকৃতি দেখা দিতে পারে, সে ক্ষেত্রে উক্ত স্থানে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী অতি দ্রুত রেল পরিবহনের মাধ্যমে প্রেরণ করা সম্ভব।
- বৈদেশিক আক্রমণকে প্রতিহত করার জন্য সৈন্য সামন্ত, অস্ত্র দ্রুত এক স্থান হতে অন্য স্থানে প্রেরণ করা হয়। রেল পথের মাধ্যমে এ জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব।
প্রকৃতপক্ষে স্থল পরিবহনে রেলপথের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে রেলপথে লোক চলাচলের চেয়ে পণ্য আদান-প্রদানের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে রেল যোগাযোগ খুবই উন্নত। উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও রেল পরিবহনের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৯। টেকসই উন্নয়ন ধারণা ব্যাখ্যা কর।
টেকসই উন্নয়ন
১৯৮৭ সালে বিশ্ব পরিবেশ ও উন্নয়ন কমিশন কর্তৃক টেকসই উন্নয়ন ধারণাটি সৃষ্টি করে। টেকসই উন্নয়ন ধারণাকে ব্যাখ্যা করা খুবই কঠিন। তবে এর মর্মকতা হলো, এমনভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কোন ক্ষতি না হয় বা কম হয়। সুতরাং সমাজে এই সচেতনতা সৃষ্টর মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করতে হবে।
অতিরিক্ত কার্বন নির্গত হওয়ায় বায়ুমণ্ডল উষ্ণ হয়েছে এবং এর ফলে বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপদে ফেলবে। শিল্প উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে এমনটি হয়েছে। সুতরাং শিল্প প্রতিষ্ঠানের জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার হলো টেকসই উন্নয়নের কাজ।
টেকসই উন্নয়নের ধারণা
বর্তমানের প্রয়োজন পূরণ করতে গিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিঃস্ব না করার কথা বলা হয়েছে। মানুষের চাহিদার শেষ নেই। বিশ্বের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর সীমাহীন চাহিদা পূরণ করার জন্য মানুষ প্রতিনিয়ত নির্দয়ভাবে পরিবেশের ক্ষতি করছে। একদিকে পৃথিবীতে সঞ্চিত সম্পদ শেষ হচ্ছে আবার অন্যদিকে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।
সুতরাং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পদ ও পরিবেশ উভয় ই সংরক্ষিত এবং সুস্থ রেখে, বর্তমান প্রয়োজন মেটানোকে টেকসই উন্নয়ন বলে। আবার অন্যভাবে বলা যায়, পরিবেশের কোন ক্ষতি না করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা মিটানোর উপযোগী গতিশীল অর্থনৈতিক উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়ন বলে।
টেকসই উন্নয়নের গুরুত্ব
পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে টেকসই উন্নয়নের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিবেশের সাথে মানুষের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের চাহিদা মিটানোর জন্য পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হবে। সুতরাং পৃথিবী বাসযোগ্য রাখতেই টেকসই উন্নয়ন করা মানবজাতির একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। নিম্নে টেকসই উন্নয়নের গুরুত্ব আলোচনা করা হলো-
১। সম্পদ সংরক্ষণ
মানুষের চাহিদা সীমাহীন। কিন্তু সম্পদ সীমিত। এই সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার করে উন্নয়ন করতে হবে। আবার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পদ সংরক্ষণ করতে হবে। নবায়নযোগ্য সম্পদ যেমন-কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল প্রভৃতি পৃথিবীতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে। সুতরাং ব্যাপকভাবে তা ব্যবহার করলে একসময় ফুরিয়ে যাবে। আবার পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন ভাবে ব্যবহার করা যাবে না। আর সেটা একমাত্র সম্ভব টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে।
২। পরিবেশ দূষণ হ্রাস
মানুষের বিভিন্ন বিবেকবর্জিত কর্মকাণ্ডের ফলে পরিবেশ নানা ভাবে দূষিত হচ্ছে। এই দূষণের হাত থেকে পরিবেশকে বাঁচতে হলে টেকসই উন্নয়ন দরকার।
৩। দারিদ্র বিমোচন
টেকসই উন্নয়নের ফলে মানব সম্পদের উন্নয়ন এবং সমাজ থেকে দারিদ্র দূর হয়। সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের ফলে সুষম উন্নয়ন অর্জিত হয়।
৪। বাসযোগ্য পৃথিবী
টেকসই উন্নয়নের ফলে পরিবেশের ক্ষতি হয় না বা কম হয়। বিধায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবী নিরাপদ থাকে। সুন্দর বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার জন্য টেকসই উন্নয়নের গুরুত্ব অপরিসীম।
৫। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা
জনগণের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের ধারণা থাকলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব। কোন ধরনের কর্মকাণ্ডে পরিবেশের কি কি ক্ষতি হয় এবং তার প্রভাব কি হতে পারে সেটা জানা থাকলে মানুষ পরিবেশের ক্ষতি করবে না। সুতরাং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য টেকসই উন্নয়ন দরকার।
গ বিভাগ
যেকোনো ৫ টি প্রশ্নের উত্তর দাও ১০X৫=৫০
১০। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব আলোচনা কর।
১১। বাংলাদেশের খনিজ সম্পদের বিবরণ দাও।
১২। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পর্কে আলোচনা কর।
১৩। বসতি কাকে বলে? বাংলাদেশের গ্রামীণ বসতীর শ্রেণীবিভাগ বর্ণনা কর।
১৪। জনসংখ্যা বন্টন কি? জনসংখ্যা বন্টনের নিয়ামক গুলো আলোচনা কর।
১৫। নদী ব্যবস্থা কি? নদী ব্যবস্থার শ্রেণীবিভাগ কর এবং বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থার বিবরণ দাও।
১৬। বাংলাদেশের চর ও হাওড় অঞ্চলের পরিবেশ বর্ণনা কর।
১৭। বাংলাদেশের জীববৈচিত্র সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা ও উপায় সমূহ বর্ণনা কর।
নিচে এগুলোর উত্তর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো-
১০। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব আলোচনা কর।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব আলোচনা কর
এই প্রশ্নটির উত্তর বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন অথবা ক্লিক করুন- "হাসি অনলাইন আইটি"
অথবা গুগলে সার্চ দিন- https://www.hasionlineit.com/2024/05/blog-post_13.html
১১। বাংলাদেশের খনিজ সম্পদের বিবরণ দাও।
বাংলাদেশের খনিজ সম্পদের বিবরণ দাও
এই প্রশ্নটির উত্তর বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন অথবা ক্লিক করুন- "হাসি অনলাইন আইটি"
অথবা গুগলে সার্চ দিন- https://www.hasionlineit.com/2024/11/blog-post_22.html
১৪। জনসংখ্যা বন্টন কি? জনসংখ্যা বন্টনের নিয়ামক গুলো আলোচনা কর।
জনসংখ্যা বন্টন কি? জনসংখ্যা বন্টনের নিয়ামক গুলো আলোচনা কর
এই প্রশ্নটির উত্তর বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন অথবা ক্লিক করুন- "হাসি অনলাইন আইটি"
অথবা গুগলে সার্চ দিন- https://www.hasionlineit.com/2025/01/blog-post_17.html
উপসংহার
আজকের প্রতিবেদনে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের এক কথায় প্রশ্ন এবং তার উত্তর সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং তার উত্তর সহ কিছু বড় প্রশ্নের নমুনা উল্লেখ করা হয়েছে। আমি আশা করছি এই সমস্ত প্রশ্ন এবং উত্তর আয়ত্ত করতে পারলে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে ভালো ফলাফল করা সম্ভব। এতক্ষণ ধরে প্রতিবেদনটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
Hasi Online IT নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url