বাংলাদেশের জনসংখ্যার বন্টন এবং নিয়ামক সমূহ
বাংলাদেশের জনসংখ্যার বন্টন এবং নিয়ামক সমূহ সম্পর্কে জানার জন্য খুব আগ্রহী, এই বিষয়ে সঠিক তথ্য জানার জন্য বিভিন্ন লেখকের বই খোঁজাখুঁজি করছেন, বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘাটাঘাটি করছেন? তাহলে এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন। আপনার জন্য আজকের এই প্রতিবেদনটি অত্যন্ত প্রয়োজন।
আজকের এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জনসংখ্যার বন্টন বিভাগ ওয়ারি বন্টন এবং জনসংখ্যা বন্টনে প্রভাব বিস্তারকারী বিভিন্ন নিয়ামক সমূহ সহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। চলুন প্রতিবেদনটি দেখে নিই-
ভূমিকা
বাংলাদেশ একটি অতিরিক্ত জনসংখ্যার দেশ। পৃথিবীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বিগত ২ শত বছরের সব দেশের সমান ছিল না। যেমন অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপের জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার বেশি থাকলেও বিংশ শতাব্দীতে ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এমনকি কোন কোন দেশে শূন্য জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়। অন্যদিকে সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্য সময় থেকে আজ পর্যন্ত এশিয়া মহাদেশের অধিকাংশ দেশে জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধির হার প্রায় একই রকম রয়ে গেছে। যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সেই দেশের জনসংখ্যার উপর নির্ভরশীল। কোন কোন দেশে পর্যাপ্ত সম্পদ থাকলেও যদি সেই দেশে উপযুক্ত জনশক্তি না থাকে তবে উক্ত দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। দেশের সার্বিক উন্নয়ন তথা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য জনশক্তি প্রয়োজন। অন্যদিকে আমরা এটাও উপলব্ধি করতে পারি কোন দেশের জনসংখ্যা সম্পদ না হয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনুন্নত দেশে এটা বেশি উপলব্ধি করা যায়।
বাংলাদেশের জনসংখ্যার বন্টন
দক্ষিণ এশিয়ার সবচাইতে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ। এর আয়তন ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যা হল প্রায় ১৪.৯৮ কোটি এবং খানার সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ১৮ লক্ষ ৬৩ হাজার ৩৯৬ টি। জনসংখ্যার প্রাক্কালনের মাধ্যমে ২০১২ সালের ১৬ই জুলাই পর্যন্ত দেশের মোট জনসংখ্যা হিসাব করা হয়েছে ১৫ কোটি ২৫ লক্ষ ১৮ হাজার ১৫ জন প্রায়। পরিবারের সদস্য সংখ্যা গড় প্রায় ৪.৪ জন। নারী পুরুষের অনুপাত ১০০ঃ ১০৩ জন। পুরুষের সংখ্যা প্রায় ৩৯ লক্ষ ৭ কোটি ৩৯ লক্ষ ৮০ হাজার ৩৮৬ জন এবং নারীর সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৪৭ লক্ষ ৯১ হাজার ৯৭৬ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ১ হাজার ১৫ জন।
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ৬৪ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে ঢাকা জেলায় যা প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ৪৩ হাজার ৯৭৭ জন। এখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বাস করে প্রায় ৮ হাজার ২২৯ জন। সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বান্দরবান জেলায় যা প্রায় ৩,৮৮,৩৩৫ জন। এ জেলায় প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বাস করে প্রায় ৮৭ জন।
বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ। বিশ্বের স্থলভাগের মোট আয়তনের মাত্র ১.৩২% বাংলাদেশের অন্তর্গত। বিশ্বে বৃহৎ এই বদ্বীপ রাষ্ট্রের প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ১৯৭৪ সালে ৪৮৫ জন, ১৯৮১ সালে ৫৯০ জন, ১৯৯১ সালে ৭২০ জন, ২০০১ সালে ৮৪০ জন এবং ২০১১ সালে ১০ হাজার ১৫ জন ছিল।
বাংলাদেশের বিভাগ ভিত্তিক জনসংখ্যা
বিভাগ ভিত্তিক বাংলাদেশের জনসংখ্যা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ঢাকা বিভাগে সবচাইতে বেশি লোক বাস করে। আর সবচেয়ে কম লোক বাস করে বরিশাল বিভাগে। আবার শহরে গ্রামের চেয়ে তুলনামূলক বেশি লোক সংখ্যা বাস করে থাকে।
২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী ঢাকা বিভাগের লোকসংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৪৩ হাজার ৯১৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের লোক সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৪১ লাখ ৭৮ হাজার ৫৮১ জন, খুলনা বিভাগের লোক সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭৮ লাখ ১৩ হাজার ৯৫৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের লোকসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫২৪ জন, রাজশাহী বিভাগের লোক সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ ৯৪ হাজার জন, রংপুর বিভাগের লোকসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ জন, সিলেট বিভাগের লোক সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ ১৫ হাজার ২১ জন, এবং বরিশাল বিভাগের লোকসংখ্যা প্রায় ৯৩ লক্ষ জন।
বাংলাদেশে জনসংখ্যা বন্টনে প্রভাবকারী নিয়ামক সমূহ
বাংলাদেশের সর্বত্র জনসংখ্যার বন্টন সমান নয়। সারাদেশে জনসংখ্যার অসম বিন্যাস পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। জনবসতীর সাথে স্থান সংকুলানের প্রশ্নটি বিশেষভাবে জড়িত। জনসংখ্যার ঘনত্ব ও বন্টন দ্বারা ভূমির ওপর জনসংখ্যার চাপের তীব্রতা প্রকাশ পায়। সাধারণত ৪ টি নিয়ামক বাংলাদেশের জনসংখ্যা বন্টনকে প্রভাবিত করে। যথা-
১। প্রাকৃতিক নিয়মক (Physical Factors)
২। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নিয়মক (Social and Cultural Factors)
৩। অর্থনৈতিক নিয়ামক (Economical Factors)
৪। জনমিতিক নিয়ামক (Demographic Factors)
১। প্রাকৃতিক নিয়মক (Physical Factors)
বাংলাদেশের জনসংখ্যা বন্টনের আঞ্চলিক বিভিন্নতার ধরন এবং জনবসতিপূর্ণ অঞ্চল গুলোর অবস্থান পর্যালোচনা করলে প্রাকৃতিক কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যে সকল প্রাকৃতিক নিয়ামক জনসংখ্যা বন্টনকে প্রভাবিত করে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো-
ভূমিরূপ (Land Feature)
সমভূমি এলাকায় বসতি স্থাপনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। সমভূমি এলাকায় সহজেই চাষাবাদ এবং বসবাস করা যায়। অপরদিকে খাড়া ঢালযুক্ত ভূমি বসবাস এবং চাষাবাদের জন্য তেমন উপযোগী নয়। বাংলাদেশের বান্দরবান জেলায় লোক বসতি সবচেয়ে কম। এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রায় ৮৭ জন, অথচ বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব গড়ে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১০১৫ জন। সুতরাং দেখা যায় পাহাড়ি এলাকায় লোক বসতি কম এবং সমভূমি এলাকায় লোক বসতি বেশি।
উর্বর মৃত্তিকা (Fertile Soil)
মৃত্তিকার উর্বরতা শক্তি জনসংখ্যার বন্টন ও ঘনত্বের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। নদীবাহিত উর্বর মৃত্তিকায় বিভিন্ন ফসল ভালো জন্মে। বাংলাদেশে যে সকল এলাকায় নদী বাহিত উর্বর মৃত্তিকা রয়েছে, সেসব এলাকায় জনসংখ্যার বসতি বেশি পরিলক্ষিত হয়। আবার কংকরময়, বালুকা মৃত্তিকায় ভালো ফসল হয় না, বিধায় সেখানে লোক বসতি কম।
পানির প্রাপ্যতা (Water Supply)
সাধারণত দেখা যায় যে এলাকায় পানির সহজলভ্যতা বেশি সেই এলাকায় লোক বসতি বেশি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পানির সহজ প্রাপ্যতা নেই বিদায় সেখানে লোক বসতি কম। যেখানে পানির সহজলভ্যতা রয়েছে সেখানে বিভিন্ন শিল্প-কলকারখানা গড়ে উঠে। ফলে সেই এলাকায় লোক বসতি বেশি হয়। যেমন খুলনা নিউজপ্রিন্ট কাগজের কল পানির সহজলভ্যতার জন্য গড়ে উঠেছে।
ভৌগলিক অবস্থান (Geographycal Location)
ভৌগোলিক অবস্থান জনসংখ্যার বন্টনকে যথেষ্ট প্রভাবিত করে। বাংলাদেশের প্রায় সাতটি বড় বড় শহর সমুদ্র বা নদীর তীরে গড়ে উঠেছে। যেমন- ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, যশোর, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ ও সিরাজগঞ্জ প্রভৃতি।
তাপমাত্রা (Temperature)
তাপমাত্রা ছাড়া কোন প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে না। তবে তাপমাত্রা বেশি হলে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে থাকে, ঠিক তেমনি কম তাপমাত্রা ও জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে।
বৃষ্টিপাত (Rainfall)
সাধারণত বাংলাদেশে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বৃষ্টিপাত কম হয়। বৃষ্টিপাত আবহাওয়া ও জলবায়ুর অন্যতম উপাদান। বৃষ্টিপাত মানুষের জীবন যাত্রার ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। বাংলাদেশের যে এলাকায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে সেই এলাকায় চাষাবাদ ভালো হয় এবং জনবসতিও বেশি।
২। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নিয়মক (Social and Cultural Factors)
বাংলাদেশের জনসংখ্যা বন্টনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী যেসব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নিয়মগুলো রয়েছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
রাজনৈতিক কারণ (Political Cause)
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার পালা বদলের ফলে অনেক রাজনৈতিক নেতা বা কর্মী নির্যাতন বা হয়রানীর ভয়ে বিভিন্ন দেশে অভিগমন করে। আবার অনেকে কোন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে অথবা প্রতিপক্ষের আক্রমণ বা হামলার থেকে বাঁচার জন্য অভিগমন করে। বিশেষ করে 1971 সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ হতে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করা যায়। যা এই দেশের জনসংখ্যা বন্টনকে প্রভাবিত করে।
ধর্মীয় কারণ (Religion Cause)
বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান উন্নয়নশীল দেশ। এ দেশে অন্যান্য ধর্মের লোক বাস করে। যেমন হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, প্রভৃতি। আমাদের প্রতিবেশী বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারত একটি হিন্দু প্রধান রাষ্ট্র। বাংলাদেশের অনেক হিন্দু ধর্মের লোক ভারতে অভিগমন করেছে এবং এখনো কিছু করছে। আবার মুসলমানদের বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রের দিকে অভিগমন করার ঝোঁক বেশি।
সরকার নীতি (Government Policy)
সরকারের গৃহীত সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতি জনসংখ্যা বন্টনকে প্রভাবিত করে যেমন- বাংলাদেশ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নীতি। বাংলাদেশে পাহাড়ি এলাকায় বাঙ্গালীদের জমির মালিকানার বিষয়ে কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
৩। অর্থনৈতিক নিয়ামক (Economical Factors)
বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী অর্থনৈতিক নিয়ামকগুলো যে সমস্ত প্রভাব বিস্তার করে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব (Influence of Economical Activity)
মানুষের জীবনযাত্রার সাথে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড নিবিড়ভাবে জড়িত। আয় রোজগার যেখানে বেশি জীবন যাপনের সুবিধা যেখানে ভালো, মানুষ সেখানে বসবাসের জন্য আগ্রহী হয়। বাংলাদেশের ঢাকা শহরে যে কোন মানুষ কোন না কোন কাজ জোগাড় করতে পারবে, কিছু না হলেও রিক্সা বা ভ্যান চালনা বা বাসায় কাজ করা বা গার্মেন্টসে কাজ করতে পারবে। এমন আশায় গ্রাম থেকে মানুষ দলে দলে ঢাকা শহরে অভিগমন করে। সুতরাং অর্থনৈতিক কর্মকান্ড দেশের জনসংখ্যা বন্টনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে সেটা সুনিশ্চিত।
পানি সেচ (Irrigation)
স্বাভাবিকভাবে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত কৃষি কাজের সুবিধা জনক বলে জনবসতি সেখানে অধিক। কিন্তু পাঞ্জাবে ও নীলনদের অববাহিকায় অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম বলে সেখানে সেচের মাধ্যমে চাষাবাদ করা হয় এবং জনবসতি বৃদ্ধি পায়। বাণিজ্যিক কৃষির সাথে জনসংখ্যা বন্টনের একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তবে কোন নির্দিষ্ট বা স্থির সম্পর্ক নয়। বাংলাদেশের যেসব এলাকায় কৃষিকার্য ভালো হয় সেসব এলাকায় লোক বসতি বেশি
যাতায়াত ব্যবস্থা (Transport System)
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নত এলাকা গুলিতে জনবসতি অধিক। বিশেষভাবে যে সকল এলাকায় জল ও স্থলপথে যাতায়াত অধিক সুবিধা জনক। বাংলাদেশের যে সকল শহরের রেলপথ, সড়ক পথ ও জল পথের সাথে যুক্ত আছে সেসব শহরে লোক সংখ্যা বেশি। আবার ওই সকল শহর আলাদা শহর থেকে উন্নত ও বটে। যেমন ঢাকা,চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ,নারায়ণগঞ্জ প্রভৃতি।
শিল্প ও বাণিজ্য (Industry and Trade)
ঢাকা,চট্টগ্রাম, খুলনা, গাজীপুর, টঙ্গী প্রভৃতি শিল্প ও বাণিজ্যের প্রধান অঞ্চল বলে জনসংখ্যা জনবহুল এলাকায় পরিণত হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশসমূহের শিল্প এলাকায় শ্রমিকের কর্মসংস্থান, খাদ্য এবং শ্রমিক নির্দিষ্ট থাকায় জনবসতি বৃদ্ধি পায়।
প্রযুক্তির প্রভাব (Influence of Technology)
প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে জনসংখ্যার বন্টন ও প্রভাবিত হয়। কারণ প্রযুক্তির উন্নতির ফলে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, যাতায়াত ব্যবস্থা প্রভৃতিতে ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত হয় এবং জনসংখ্যার বন্টনের তারতম্য পরিলক্ষিত হয়।
৪। জনমিতিক নিয়ামক (Demographic Factors)
বাংলাদেশের জনসংখ্যা বন্টনের প্রভাব বিস্তারকারী জনমিতিক নিয়ামক গুলো নিম্নে বর্ণনা করা হলো। চলুন এবার আমরা দেখে নিই বাংলাদেশের জনসংখ্যা বন্টনের জনমিতিক নিয়ামক গুলো নিয়ম গুলো।
প্রজননশীলতা (Fertility)
প্রজননশীলতার তারতম্যের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন স্থানে জনসংখ্যার ঘনত্ব বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। সাধারণত পৌর এলাকা অপেক্ষায় গ্রামীণ এলাকা, উচ্চ শ্রেণী অপেক্ষা নিম্ন শ্রেণীর, মানসিক পরিশ্রমকারী অপেক্ষা কাইক পরিশ্রমকারীদের মধ্যে প্রজননশীলতা অধিক। সাধারণত এই কারণে বাংলাদেশের শহর অপেক্ষা গ্রামের লোকদের প্রজননশীলতা বেশি দেখা যায়।
মরণশীলতা (Mortality)
মানুষ মাত্রই মরণশীল। মানব কুলের এই বৈশিষ্ট্যকে মরণশীলতা বলা হয়। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী, যুদ্ধ বিগ্রহ অশিক্ষা ইত্যাদির কারণে বাংলাদেশের অঞ্চলভেদে মরণশীলতা পার্থক্য হয়ে থাকে। বাংলাদেশে উপকূলীয় জেলাগুলোতে প্রায় প্রতি বছর সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, সুনামি, ঘূর্ণিঝড় প্রভৃতি কারণে অনেক লোক মারা যায়। আবার অনেক জেলে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মৃত্যুবরণ করে। সুতরাং বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে দেশের অন্যান্য জেলা অপেক্ষা অস্বাভাবিক মৃত্যুর হার কিছুটা বেশি। যা জনসংখ্যা বন্টন কে প্রভাবিত করে। তবে ঢাকা জেলা বা ঢাকা শহরের অস্বাভাবিক মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি।
অভিপ্রয়াণ (Migration)
মানুষ তার নিজ প্রয়োজনে তাগিদে অভাব অনটনের জন্য প্রাকৃতিক বা সামাজিক কারণে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থান পরিবর্তনের ফলে জনসংখ্যার ঘনত্বের তারতম হয়। যেমন বাংলাদেশের গ্রাম থেকে শহরে অভিগমন। এদেশে প্রায় প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে বিশেষ করে ঢাকা শহরে জনসংখ্যা সাধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি লোক বাস করে। যে কারণে এই শহর বসবাসের অযোগ্য শহরে পরিণত হয়েছে।
উপসংহার
বাংলাদেশের জনসংখ্যার বন্টন এবং এর নিয়ামক সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আশা করছি এ বিষয়ে সঠিক এবং পরিপূর্ণ তথ্য গুলো বুঝতে পেরেছেন। এই বিষয়ে যদি কোন সংযোজন বা বিয়োজন এর প্রয়োজন হয় বা আপডেট তথ্য আপনি পেয়ে থাকেন তবে কমেন্ট বক্সে জানিয়ে রাখবেন। এই ওয়েবসাইটের এডমিন প্রতিটা কমেন্টসের সঠিক মূল্যায়ন করে থাকেন। এতক্ষণ ধরে এই প্রতিবেদনটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
Hasi Online IT নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url